পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সুদ আয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফাও বেড়েছে। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির সুদ আয় হয়েছে ৫৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সুদ আয় বেড়েছে ১০২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বা ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে আলোচ্য হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৬৬ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৮৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৬৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য ডিবিএইচ মোট ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৩৫ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৭ টাকা ১৫ পয়সা।
কোম্পানিটির সর্বশেষ সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে আসা ডিবিএইচের অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৬৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ১৭১। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৩৯, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৭০ পয়সায়, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪১ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৮ টাকা ৭০ থেকে ৫৬ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করেছে।